হিমু ও রুপার প্রেমের গল্প

 

হিমু ও রুপার প্রেমের গল্প

Himu and Rupa picture

হিমু ও রুপার অতৃপ্ত ভালোবাসা

রূপা: তুমি কি জানো আমি তোমার কথা খুব ভাবি।
হিমু: আমি জানি।
রূপা: সত্যি জানো?
হিমু: হ্যাঁ জানি…!
রূপা: কী করে জানো…?
হিমু: ভালোবাসা টের পাওয়া যায়…।
রূপা: কেন জানি তোমার কথা সবসময় মনে হয়,এর নাম কি ভালোবাসা…?
হিমু: আমার জানা নেই রূপা…!
রূপা: তুমি কি আসবে আমাদের বাসায়..?
হিমু: আসবো…।
রূপা: কখন,,,আসবে…?
হিমু: এক্ষুনি,,,আসছি…।
রূপা: আচ্ছা বেশ আসো…!
হিমু: তোমার কী কোন নীল রঙের শাড়ি আছে…?
রূপা: কেন,,,বলতো…?
হিমু: যদি থাকে তাহলে নীল রঙের শাড়ি
– পরে গেটের কাছে থেকো।
আমি এলে গেট খুলে দিবে…!
রূপা: আচ্ছা…।
হিমু গেলো না! আবার মাস খানিকের জন্য ডুব দিলো, কারণ ভালোবাসার মানুষদের খুব কাছে কখনো না কি যেতে নেই। তাতে নাকি ভালোবাসা কমে যায়।



আমি কখনো রূপাকে চিঠি লিখি নি।
একবার হঠাৎ একটি চিঠি লিখতে ইচ্ছা হলো । লিখতে বসে দেখি কী লিখব ভেবে পাচ্ছি না। অনেকবার করে একটি লাইন লিখলাম :
রূপা তুমি কেমন আছ?
সমস্ত পাতা জুড়ে একটি মাত্র বাক্য।
সেই চিঠির উত্তর রূপা খুব রাগ করে করে লিখল :
তুমি এত পাগল কেন? এতদিন পর একটা চিঠি লিখলে, তারমধ্যেও পাগলামি । কেন এমন কর? তুমি কি ভাবো এইসব পাগলামি দেখে আমি তোমাকে আরো বেশি ভালোবাসব? তোমার কাছে আমি হাতজোড় করছি–স্বাভাবিক মানুষের মতো আচরণ কর। ঐদিন দেখলাম দুপুরের কড়া রোদে কেমন পাগলের মতো হাঁটছ। বিড়বিড় করে আবার কীসব যেন বলছ। দেখে আমার কান্না পেয়ে গেল। তোমার কী সমস্যা তুমি আমাকে বল।
আমার সমস্যার কথা রূপাকে কি আমি বলতে পারি? আমি বলতে পারি–আমার বাবার স্বপ্ন সফল করার জন্য সারাদিন আমি পথে পথে ঘুর। মহাপুরুষ হবার সাধনা করি। যখন খুব ক্লান্তি অনুভব করি তখন একটি নদীর স্বপ্ন দেখি। যে নদীর জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে এক জন তরুণী ছুটে চলে যায়। একবার শুধু থমকে দাঁড়িয়ে তাকায় আমার দিকে। তার চোখে গভীর মায়া ও গাঢ় বিষাদ। এই তরুণীটি আমার মা। আমার বাবা যাকে হত্যা করেছিলেন।
এই সব কথা রূপাকে বলার কোনো অর্থ হয় না । বরং কোন-কোনোদিন তরঙ্গিণী স্টোর থেকে তাকে টেলিফোন করে বলি–রূপা, তুমি কি এক্ষুণি নীল রঙের একটা শাড়ি পড়ে তোমাদের ছাদে উঠে কার্নিশ ধরে নিচের দিকে তাকাবে? তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা্‌ করছে। একটুখানি দাঁড়াও। আমি তোমাদের বাসায় সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে যাব।
আমি জানি রূপা আমার কথা বিশ্বাস করে না, তবু যত্ন করে শাড়ি পরে। চুল বাঁধে। চোখে কাজলের ছোঁয়া লাগিয়ে কার্নিশ ধরে দাঁড়ায়। সে অপেক্ষা করে। আমি কখনো যাই না।
আমাকে তো আর দশটা সাধারণ ছেলের মতো হলে চলবে না। আমাকে হতে হবে অসাধরণ। আমি সারাদিন হাঁটি। আমার পথ শেষ হয় না। গন্তব্যহীন যে যাত্রা তার কোনো শেষ থাকার তো কথাও নয়।

রুপা কে আমি দেখিনি, তার ছবি দেখেছি,কী মিষ্টি কী শান্ত চেহারা। পটে আঁকা ছবি। রূপা যেনো হারিয়ে না যায় তার জন্যেই হিমুর বান্ধবী হিসেবে আমি তাকে নিয়ে আসি। হিমু কে নিয়ে লেখা প্রতিটি উপন্যাসে রূপা আছে। আমরা কাউকে হারাতে চাই না, কিন্তু সবাইকেই হারাতে হয়।

—হুমায়ূন আহমেদ 

হিমু ও রুপার কথোপকথন

মজিদ বোধহয় রিকশা ঠিক করে ফেলেছে। তবে ঠিক করলেও সে আমাকে বলবে না । অপেক্ষা করবে। এর মধ্যেই অতি দ্রুত রূপার সঙ্গে একটা কথা সেরে নেয়া দরকার ।
আমি টেলিফোন করতেই রূপার বাবা ধরলেন । আমি গম্ভীর গলায় বললাম, এটা কি রেলওয়ে বুকিং?
তিনি ক্ষিপ্ত গলায় বলেলন, ফাজিল ছোকরা , হু আর ইউ? কী চাও তুমি?
রূপাকে দেবেন?
রাসকেল, ফাজলামি করার জায়গা পাও না । আমি তোমাকে এমন শিক্ষা দেব।
আপনি এত রেগে গেছেন কেন?
শাট আপ ।
আমি ভদ্রলোককে আরো খানিকক্ষণ হইচই করার সুযোগ দিলাম। আমি জানি হইচই শুনে রূপা এসে টেলিফোন ধরবে। হলোও তাই , রূপার গলা শোনা গেল- । সে করুণ গলায় বলল, তুমি চলে এস।
কখন?
এই এখন । আমি বারান্দায় দাড়িয়ে থাকব।
আচ্ছা আসছি।
অনেকবার আসছি বলেও তুমি আস নি- এইবার যদি না আস তাহলে ….
তাহলে কী?
রূপা খানিকক্ষণ চুপচাপ থেকে বলল,আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকব।
রূপার বাবা সম্ভবত তার হাত থেকে টেলিফোনটা কেড়ে নিলেন। খট করে রিসিভার নামিয়ে রাখার শব্দ হলো । আজ ওদের বাড়িতে ভূমিকম্প হয়ে যাবে। রূপার বাবা,মা,ভাই-বোন কেউ আমাকে সহ্য করতে পারে না । রূপার বাবা তাঁর দারোয়ানকে বলে রেখেছেন কিছুতেই যেন আমাকে ঐ বাড়িতে ঢুকতে না দেয়া হয়। আজ কী হবে কে জানে?

Comments

Popular posts from this blog

মিসির আলি - Misir Ali Series

Himu Series All (25) Books